ঢাকার ধামরাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজছাত্র আফিকুল ইসলাম সাদ হত্যা মামলায় উপজেলা কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান এবং কুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী-লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছেন র্যাব-৪ এর একটি অভিযানিক দল।
গত মঙ্গলবার (২২অক্টোবর) রাতে র্যাব-৪ সাভার মডেল থানাধীন ব্যাংক কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে র্যাব। মোঃ লুৎফর রহমান হাফিজুর রহমান উপজেলা কুল্লা ইউনিয়নের খাতড়া গ্রামের বাসিন্দা। অফিকুল ইসলাম সাদ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। র্যাব সূত্রে জানা যায়,গত ৫আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ধামরাই হার্ডিঞ্জ সরকারি স্কুল ও কলেজ গেটের সামনে নির্বিচারে গুলি করা হয়।
এসময় কলেজছাত্র আফিকুল ইসলাম সাদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার সহপাঠিরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদ ৮আগস্ট সকালে মারা যান। এঘটনায় নিহত সাদের নানা মোঃ আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২১আগস্ট স্থানীয় সাবেক এমপি বেনজীর আহমদসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৮২জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং ৮০-৯০জনকে অজ্ঞাত করে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীরা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে র্যাব-৪ একটি অভিযানিক দল রাতে অভিযান চালিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ও আওয়ামী-লীগের নেতা হাফিজুর রহমানকে সাভার ব্যাংক কলোনি থেকে তাদের গ্রেফতার করেন। এই বিষয়ে র্যাব-৪ এর সিসিপি-২ কোম্পানী কমান্ডার মেজর জালিস মাহমুদ খান বলেন, র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাতে কলেজ ছাত্র সাদ হত্যা মামলার আসামী কুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান ও কুল্লা ইউনিয়ন আওয়াম-িলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমানকে সাভার ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ধামরাই থানায় সোর্পদ করা হয়।
অদূর ভবিষ্যতে এইরুপ অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাব-৪ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।