দেশে ্ট্টচগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে কলেজছাত্র তানভীর ছিদ্দিকী (১৯) হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও নগরের তিন কাউন্সিলরসহ প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
১৬ আগস্ট শুক্রবার রাতে নিহত ছাত্রের চাচা মোহাম্মদ পারভেজ বাদী হয়ে নগরের চান্দগাঁও থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ৩৪ জনের নামসহ ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। মামলার বিষয়টি চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে অন্যরা হলেন নগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, চান্দগাঁও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এসরারুল হক, জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ, চকবাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর মোস্তফা, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, নগর আওয়ামী লীগ নেতা বাবর আলী, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক বিন ওসমান শরীফ।
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, তাঁর ভাতিজা তানভীর ছিদ্দিকী গত ১৮ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–আন্দোলনের ব্যানারে অন্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে অন্য আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জন আসামি চাপাতি, কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওয়াপদা অফিসের দিক থেকে এসে তানভীর ছিদ্দিকীসহ অন্য ছাত্রছাত্রীদের দিকে ইট-পাথর নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে তানভীরসহ আন্দোলনকারী অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তানভীরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় আসামি হিসেবে যুবলীগ নেতা মো. কাইসার, মাহবুব আলম, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিউদ্দীন ফরহাদ, মো. দেলোয়ার, মো. জালাল, মো. ফরিদ, সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি মো. তাহসীন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসাইন অভি, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জিয়াউদ্দীন আরমান, যুগ্ম সম্পাদক মনির উদ্দিনসহ আরও ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।